header

নব আলোকে বাংলা

উত্তরাধিকার। অঙ্গীকার। দূরদৃষ্টি।

সম্পাদক

সুপ্রতীক অরূপ ঘোষ

 

পাঠক পরিষদঃ চঞ্চল চৌধুরী, শুভলগ্না শোয়ারা 

সম্পাদকীয় ছন্দাবলী - ২৮

কবিতা আমার প্রথম প্রেম, লেখা থাকে মনে
এ’কথা সুপ্রতীক জানে আর জানে বন্ধুজনে
নব আলোকে বাংলা দশম বর্ষ পার করে দিল
সরবে নীরবে শ্রদ্ধায় সাদরে আবার সামনে এল

আমাদের কথা আমরা ছন্দে বলি
নাম তার সম্পাদকীয় ছন্দাবলী
শীতের শুরুতে পৌষের মুখে
পুলি পিঠে মিষ্টান্ন খাবেন সুখে
সামনে বিজয় দিবস, বড়দিন
সকলে আনন্দ করুন স্বাধীন

নতুন ইংরেজী বছর এখন সাজছে
কি জানি কি রহস্য নিয়ে বসে আছে
হিঁদু মুসলমান ঈশামাসি, ধর্মী, বিধর্মী বা অধর্মী
কবিতা, সাহিত্য, ছবি ও ভালবাসা নিয়ে থাকি সহমর্মী

সম্পাদকীয় ছন্দাবলীর এই পর্যায়ে এসে যেন না ভুলি
এই পৃথিবীকে শিশুদের বাসযোগ্য ও সুন্দর করে তুলি...
দূষণমুক্ত হোক মন মনন চেতন ও অচেতন সর্বত্র সর্বদা সর্বোপরি
এই শপথে আসুন আমরা সবাই একাত্ম ও সমর্পিত হয়ে কাজ করি...

আপনাদের

সুপ্রতীক অরূপ

ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭

*

*

এবারের প্রকাশনার সূচীপত্র

কবিতা

*

যদি

চতুর্দশপদী  কবিতা - সুখ

মনপুর কত দূর

ব্যবচ্ছেদ

কলকাতা মেট্রো...

*

কথিকা

*

বৃষ্টি ও আমি

মাননীয়া

ভালবাসার স্রোত

*

*

অণুগল্প

*

সাত সকালে খুন!

 

*

গল্প

প্রত্যাশা

জলাশয় তত দূরে... 

ক্রস কানেকশান ও সম্পৃক্তি!

একি খেলা আপন সনে

*

*

প্রবন্ধ

যাদের রক্তে মুক্ত এ দেশ

*

*

কবিতা

যদি
রানা পাল

ভোরের আলোয় পেরিয়ে যাব নদী,
আচমকা হই নির্বাসিত যদি,

চমকে দিয়ে দূর দূরান্ত গ্রামে,

যেমন আবিষ্ট অতি প্রিয় রমনীতে,
হঠাৎ প্রগাঢ় উপশিরা ধমনীতে,

অন্ধ কালো বিষাদ এসে থামে।

*

*

সুখ

এ টি এম মোস্তফা কামাল

রাতের আকাশে কিছু জ্বলজ্বলে তারা
ছেঁড়া খোঁড়া মেঘতুলো এখানে সেখানে।
নদীর পরাণ ধরে চাঁদ শুধু টানে !
জোছনায় মেখে নিয়ে লাজুক চেহারা
কিছু কিছু ফুল দেয় নীরব ইশারা।
মাঝে মাঝে কথা বলে পাখিদের কানে।
কী সুখে ঝিঁঝিঁরা ডাকে তারাই তা জানে !
বাতাস দৌড়ে এসে ফেলে দেয় সাড়া !

এমন নিসর্গ রাতে কী অনল জ্বেলে
সে এক রমণী-কৃষ্ণ বাঁশরী বাজিয়ে-
আমার বুকের তাপে ডোবালে ও মুখ
বহু পথ হেঁটে যেন স্বপ্ন-গৃহ পেলে
আমার শরীরে দিলে শরীর সাজিয়ে !
খুশীতে হৃদয় বলে, কী সুখ ! কী সুখ !

*

*

মনপুর কত দূর

 অরূপ সুপ্রতীক ঘোষ

কবিতাকে ভালবেসে তোমাকে পাওয়া
মনপুর কত দূর জানিনা তবু যাওয়া
ভৌগলিক দুরত্ব ইতিহাস কিম্বা ভবিতব্য
জানিনা, জানতেও চাইনা
দীপ্তা সানন্দা স্বছন্দা গরবিনী না অহঙ্কারী
একদিন যেওনা হারিয়ে, হোক না একটু বাড়াবাড়ি
পেরিয়ে হাট বাট
ছুটিয়ে মাঠ ঘাট
দিগন্তের ওপারে দাঁড়িয়ে
দেখো সে দু'হাত বাড়িয়ে
নির্বাক সে বর্ণহীন শব্দবিহীন
শুনতে তুমি পাবেই
দেখা হবে আত্মাপুরে
না পেলে থাকুক শরিরী যতিচিহ্ন
মনপুর যবে আবার হবে অশান্ত
সেই ভোরে কিম্বা রাতে কিছু অবান্তর
শব্দপুঞ্জ এসে ছুঁয়ে যাবে তোমায়
তোমার হয়ত এক শতাব্দী লাগবে
উত্তর দিতে তবুও শীত গ্রীস্ম আসবে
বর্ষা তো এসেই আছে
চোখের কোলের খুব কাছে...

*

*

ব্যবচ্ছেদ

কাসপিয়া সুলতানা

যতবার তোমাকে দেখেছি আমি
দেখেছি টেবিল–ল্যাম্পের আলোয়
অন্ধকার ঘরে ল্যাম্পের আলোয় মুখ গুঁজে ক্রমাগত লিখে চলেছ তুমি।

আমি যখনই সম্মুখীন হয়েছি
দেখেছি তোমার চোখের নিখুঁত বুদ্ধির দিপ্তী আর ল্যাম্পের আলো মিলেমিশে একাকার।
প্রথম কোন পুরুষের সামনে দ্বিধাগ্রস্ত আমি
কারণ আমি জানি তুমি ব্যবচ্ছেদ করে চলেছ আমাকে ক্রমাগত
আসলে আমাকে নয়, তুমি নিয়ত ব্যবচ্ছেদ কর আমার চিন্তা,
আসলে চিন্তা নয় – এসব আমার প্রকাশের অক্ষমতা।
কেমন করে পার তুমি এমন নিখুঁত কাটা ছেঁড়া করতে আমাকে?
কি করে বোঝ কি নেই, কি পাপ ছিল আমার?

তোমার ছুরির ফলায় ক্ষত বিক্ষত আমি
তাকাতে অক্ষম তোমার চোখে
নিজেকে মনে হয় চরম অপরাধী, মরে যেতে মন চায়
এ কেমন ব্যবচ্ছেদের নেশায় মাতালে আমাক
মন চায় বারে বারে ছুটে যেতে –
তোমার ঐ টেবিল ল্যাম্পের আলো ঘেরা অপারেশান থিয়েটারে।

*

*

কলকাতা মেট্রো...

সুপ্রতীক অরূপ


আমি মেট্রো তিলোত্তমা
নোয়াপাড়ায় নুলি শাঁখা ভেঙ্গে
দমদমায় আমিষা দম খেয়ে
বেলগাছিয়ায় বেলগাছ না পেয়ে
শ্যামের খোঁজে শ্যামবাজারে দিশাহীনা রাই
সুতোনুটীর সাঁঝ শোভার বাজারে ঘুরপাক খাই

গিরীশবাবুর পার্কে এসে অন্য নাটকের স্বাদ
গলা দিয়েছে লাইনে কেউ জীবন থেকে বাদ
মহাত্মা গান্ধী রোডে গিজগিজ কিলবিল মানুষ
সেন্ট্রালের কেন্দ্রে এখন ফাটছে প্রমিসের ফানুস

চাঁদনি চকে চাঁদ দেখেনা আকাশ
এসপ্ল্যানেডে থমকে আছে বাতাস
পার্কস্ট্রীট বয়ে আনে সুজেটের দীর্ঘশ্বাস
পুলিশের তোলাবাজী চলে রাতের ময়দানে
সদনে কর্কশ রবীন্দ্রবাণী ট্র্যাফিকের মাইকে গলা ঘষা
নেতাজী ভবনে এসে মটরে আগুন ধুপ ধাপ দৌড় বসা

অনেক হ্যাঁপা করে রেংটে লেংচে যতিনদাস পার্ক
কালিঘাট মেতেছে শহুরে রাতের চটুল অবিদ্যালীলায়
না পাওয়ার যতিচিহ্ন নিয়ে কপোতকপোতি রবীন্দ্রসরোবরে
উত্তমকুমার কে ছেড়ে অন্ধকার আকাশের বুকে নড়েচড়ে

নেতাজীকে ধরে কুঁদঘাটের উদবাস্তু কলোনীর আলোর চালশে
ঘরঘর করে যন্ত্র শরীর এসে থামে মাষ্টারদা সূর্যসেন পদপাশে
গীতাঞ্জলীর নাকের তলায় বিজ্ঞ অশিক্ষিতের চিতকার মাইকে নিলাজে
হঠাত গড়িয়ে মসিয়ে বরফ বারের বিজ্ঞাপনে বিদ্রোহী কবি বুকে বাজে

কংক্রীটের ব্রিজি এলাকায় ক্ষুদিরামকে খুঁজেও পাইনা, তার নামটা এখন দাদের মলম
ফুলগুলো সরিয়ে নাও আমার লাগছে, মনে পড়ে বিষ্ণু দের অন্তিম যাত্রায় কবি সুভাষের কলম
অন্তিম ষ্টেশনে গাড়ির কামরা খালি করার হুকুম না কি অনুরোধ না বুঝেই ছুট ছুট ছুট
একে ফেলে তাকে মাড়িয়ে আগে ধরতেই হবে অটো, বাস, রিক্সা কিম্বা মজিলপুরের লোক্যাল
জন্মের তেত্রিশ বছর পরে আমি তিলোত্তমা মেট্রো রাতের আকাশতলে হয়েছি একটু ভোক্যাল...

* * * * * *

****

**

*

বৃষ্টি ও আমি
সৈয়দ আফসার

অনেক রকম কথা বলার থাকে, আহা বৃষ্টি নিয়ে কথা বলা! কত কিছুই না বলবার মন চায়, কিন্তু সব কথা কি ভাষা দিয়ে বলা যায়? যায় না। যৌবনা বৃষ্টিকে আমি রকমারি নাম ধরেই ডাকি...ফোঁটা-ফোঁটা মায়াবৃষ্টি মন খুলে হাসে পাতানুভবে নড়েচড়ে ওঠে, কাঁপায়, হাসায়, দোলায়, হাত ধরাধরি করে হাঁটে দূর্বায়...। অঝোর ধারায় বৃষ্টি থেমে গেলে পাতাগাছের নিচে দাঁড়িয়ে গাছের শেকড় বাকড়ে জল গড়িয়ে পড়ার দৃশ্যাবলী দেখি, তুলে রাখি দু'চোখের ভাঁজে। তোমাকে মিষ্টি হাসি দেখব বলে বাঁশবনের আড়ালে দাঁড়িয়ে গল্প বুনি আর ভাবি, বৃষ্টি আমাদের মনদেহের মত কলা পাতার ছাউনি। মন ভোলানো কদম ফুলের ঘ্রাণ। বৃষ্টির উঠুনে হাঁসগুলির ডানাঝাড়ার শব্দ। আমাদের জলকেলি গল্পের মত গল্পবাজ জড়ানো-মোড়ানো কল্পনা। গাড়ির গ্লাসে, ভেজা মাটিতে আঙুলের টানে লেখা প্রিয় মুখের নাম...

অনেক বৃষ্টি ঝরে তুমি এলে যেন এক মুঠো রোদ্দুর, আমার দুচোখ ভরে'...গানের ভেতর হারানো-মোড়ানো স্মৃতি রোমন্থনে দেবারতি মিত্রের কথা মনে পড়ে 'কবিতা কি জীবনের অংশ, না কবিতার বীজ ফাটিয়ে গাছের মতো বেড়ে ওঠে জীবন' আমার এমনি দশা যাপিত জীবনে তুমি, চিরযৌবনা বৃষ্টি ও কবিতাকে আলাদা করতে পারিনা! কতটা নির্দিষ্ট তাও জানি না। তবে এ-টুকু জানি বৃষ্টি প্রেরণা সঙ্গে তোমার মায়াবী আড়চোখের চাহনি ছাড়া একটি শব্দও মনে আসে না। তুমি পুরোটা কবিতা ভেতর...বৃষ্টি আমার রবীন্দ্রনাথের গান। জীবনবাবুর কবিতা। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ, নাকফুলের নিচে জমে থাকা জলচিহ্ন, হাসির টোল, ভেজা চুলের ঘ্রাণ, লুকানো হাসি, খোঁপা খোলার শব্দসহ তোমার ঘুমের পাশে জেগে থাকা।

পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা জেগে থাকার মত বেরসিক বৃষ্টিভেজা দিন আমার থামে না! কেবল জমিয়ে রাখে স্বপ্ন-মোহ-স্মৃতি, হারানো-পোড়ানো টুকরো-টুকরো নিঃসঙ্গতা...রঙধনু মাখা বৃষ্টির লুকোচুরির দিনে মনও লুকোচুরি খেলে, স্কুল ছুটি হলেই বাড়ির পথে দৌড়ানো, ফিরেই পুকুরঘাটে লাফঝাঁফ দিয়ে জলবৃষ্টির আলিঙ্গনে জলজ শাপলা ফুলের ভাঁজে-ভাঁজে শালুক কুড়ানোসহ ডুব সাঁতারে বৃষ্টিশব্দ শোনা...বৃষ্টিদিনে কাঁথামুড়ি দিয়ে শিমবীচি-চালভাজা চিবুনোর মজা আহা...দুই দালানের মধ্যখানে দৃষ্টি রেখে জানালার শিক ধরে দাঁড়ানো কিংবা হাত দিয়ে বৃষ্টিকে ছোঁয়া...আঙুলের ফাঁক চুইয়ে জল পড়ার শব্দ গুণে গুণে আমাদের প্রথম স্পর্শটিকে খুলে খুলে দেখা...

ভিনদেশে বৃষ্টি বাদলের দিন আমার ভাল্লাগে না। মন, বৃষ্টি ও আমি নিঃসঙ্গ, একা। মুষলধারে বৃষ্টি নেই। কুনোব্যাঙের ডাক নেই। তার হাত ধরে হাঁটার দিনগুলো শালুক কুড়ানোর মত মায়া জড়ানো। সাপলুডু, চোরপুলিশ খেলার বন্ধুরা নেই, প্রাণভরে রবীন্দ্রসংগীত শুনতে পারি না। প্রিয় মুখগুলো মত হারিয়ে গেছে মাছ ধরা মেঠুপথে কাঁদা মাড়িয়ে হাঁটা...বৃষ্টি আমার আনন্দ-বেদনার হাত ভুলানো সেই কৈশোরে কালবৈশাখির ঝড়বৃষ্টিতে আম ও শিলা কুড়োনো স্মৃতি। বৃষ্টি আমার অন্ধকার রাতে টর্চ লাইটের আলোয় টাকিমাছ শিকার, হাওয়া ভরে আসা হাসনাহেনার মাতাল ঘ্রাণে আমাদের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা...কৈশোরে ফেরায়...। বৃষ্টি আমার শিশুবেলা, কৈশোর, যৌবন। আমাদের যাপিতজীবনের ভালোবাসা।

*

*

মাননীয়া
প্রণব আচার্য্য

সত্ত্বার ভেতর শুধুই আঁধার, শুধুই আঁধার—মানে অন্তহীন গহ্বর, মানে মৃদু আলোর দীর্ঘ শীতল করিডোর, চুপচাপ দেওয়ালে ক্ষ্যাপাটে পেরেক, লাল পোস্টার।

মাননীয়া, কোথায় নেই তুমি? কোন্‌ কাননে, কোন্‌ গগনে, কত হাড়ের স্মৃতিরোমাঞ্চে? বিবিধ রক্তের ধারা, এক নদী, যেমন পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, যেমন তামাবিল, অযোধ্যা, ডালাস, শাপলার মোড়ে, তুমি আছো চন্দ্রবিন্দুতে এবং ঈ-তে।
সবাই জানে, রাস্তার মোড়ে বিক্রয় হয় বিড়ি ও সিগারেট। সবাই জানে, পানিতে মাছ হয়, কোটি কোটি পোনা। সবাই জানে শতকরা ও ঐকিক নিয়ম, পাশাপাশি ইন্টিগ্রাল ও ডাইজিস্ট সিরিজ; সবাই জানে ছন্দের সমুদয় বৃত্ত। তবু সকলেই নয়, কেউ কেউ ... ট্রামে মরে।
বাকীরা সুদূর, জীবনের সব ভুল পিছে ফেলে চলে যায়? ডাস্টবিনে মরা কাক, আর শুধু সর্বভূক অভিমান। এগিয়ে চলা মানুষের ভীড়, গহ্বর, মানে ঈর্ষায় রঞ্জিত হাহাকার। হাতের ব্যান্ডে তুমিও দিয়েছ রেখে মলিন চুমু—এইসব ঘ্রাণ এখনও ভালো লাগে মুহূর্তের বাস্তবতায়। তার মানে, এখনও ফিরে আসা সম্ভব জীবনের সাবলেটে, প্রতি পেগে এবং টেবিলে উত্থিত মাশারুমে।

*

*

ভালবাসার স্রোত

কালপুরুষ

এই ব্যস্ত শহরে আজ আমার ব্যস্ত জীবন। ব্যস্ত তুমি, ব্যস্ত আমি। আজ কত বছর হলো বিশুদ্ধ কোন ভোরকে দেখিনা, যেমনটা দেখতাম পদ্মার পা্রে দাঁড়িয়ে। এই শহরের ম্যাটমেটে ভোরের আলো মনে তেমন কোন উচ্ছ্বাস জাগায়না। কতদিন ভোরের কুসুম কুসুম নরম আলোয় আঁকাবাঁকা পথ ধরে হেঁটে যাওয়া হয়না। কতদিন বুক ভরে নেয়া হয়না সবুজ প্রকৃতির সজীব নির্মল বাতাস। এই ব্যস্ত ও কোলাহলপূর্ণ শহরের দ্রুতলয়ের জীবন সঙ্গীতের সাথে তাল মেলাতে মেলাতে নিজেই কেমন বেসুরো হয়ে গেলাম। কতকিছুই যেন হারিয়ে গেল ছোট্ট এই জীবন থেকে। ছোট ছোট কত সুখের প্রহর হাত গলে বেরিয়ে গেল অনাবশ্যকভাবে, শহরের অগুণিত মানুষের ভীড়ে। কত আনন্দধারা ফাঁকি দিয়ে বয়ে গেল অজানা সব মোহনায়। যা হারিয়ে গেল তা আর কখনোই পাওয়া হবেনা একান্ত নিজের করে। সেইসব না পাওয়া কষ্ট অনেক সময় মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে, প্রবল অভিমানে এলোমেলো করে দিয়ে যায় হৃৎপিন্ডের সরল জমিন। তখন একাকিত্ব পেয়ে বসে, বিষন্নতা ঘিরে ধরে।

এই জীবনে অজস্র মানুষের সাথে কথা হলো। অনেক সাথে হলো হৃদয়ের মানবিক আদান প্রদান। মনের বাঁধন, মনের ভাঙ্গন, মনের হরষ, মনের বিষাদ, মনের সাথে মনের মেলামেশা- কতোই তো হলো কতবার কতজনের সাথে। আজ কোথায় যেন হারিয়ে গেল তারা! হৃদয়ের সম্পর্ক থিতু হতে না হতেই এক এক করে অনেকেই বেছে নিল যার যার পথ। আমি শুধু লক্ষ্যহীন এক গন্তব্যে একা, শুধুই একা। নির্বিকার চিত্তে দাঁড়িয়ে দেখে গেলাম সকলের আগমন প্রস্থান। কত প্রিয়জন, কত প্রিয় মানুষ, কত প্রিয় বন্ধু-স্বজন, হাসি মুখে এলো আর চোখের জল বইয়ে দিয়ে চলেও গেল এই জীবন থেকে। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে গেলাম আর ভাবলাম একদিন আমাকেও যেতে হবে। জীবন ধারাপাতে এসবের কোন হিসেব লেখা নেই। হিসেব রাখতে মন চায়নি কখনো। প্রিয়জনের বিদায়বেলায়, এইসব অঘোষিত চলে যাওয়ায় কতবার ভেঙ্গে গেল বুকের নরম পাঁজর, কতবার বিচ্ছেদের নোনা জলে সিক্ত হলো হৃদয়ের দুকূল- কে রাখে তার হিসেব? আমিও একদিন এই হিসেবের বাইরে চলে যাবো।

আমাদের যান্ত্রিক জীবনের প্রতি পরতে পরতে মিশে আছে কত দুঃখবোধ তার কোন হিসেব নেই, কোন নথিপত্র নেই- থাকে না, থাকার প্রয়োজন নেই। মনের অতল তলে কেউ কেউ লালন করে তার নিজস্ব দুঃখ আর কষ্টগুলো। একলা থাকা কোন নির্জন মুহূর্তে সেই দুঃখ আর কষ্টগুলো বেশ নড়েচড়ে বসে। বিষন্ন স্মৃতিগুলো পর্দা ঠেলে আচমকা উঁকি দেয়, পর্দা সরিয়ে বেরিয়ে আসে। মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা স্মৃতির সঞ্চয়গুলো একে একে ভেসে ওঠে মনে। মনে রাখা রোগে ভুগতে থাকা মানুষগুলোর হৃদয়ে সেগুলো আরো বেশী করে জেঁকে বসে। তখন সেই মানুষগুলো আরও বেশী একা হয়ে যায়। আরও বেশী নিঃসঙ্গ বোধ করে। এই নিঃসঙ্গতা হয়তোবা কারো কারো কাছে এক ধরণের বিলাসিতা, হতে পারে এক ধরণের অহংকার। সেখানে কি ভালবাসার অস্তিত্ব আছে? আছে হয়তো, নইলে মানুষ ভাবে কেন?

আমি স্বপ্ন দেখি একদিন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ ভালবাসা নিয়ে অহংকারী হবে। যে মানুষ ভালবাসতে জানে, ভালবাসা পেতে ও দিতে জানে, তারাই হবে সেই অহংকারের বিচারে শ্রেষ্ঠ মানুষ। মানুষের এক জীবনের যা সঞ্চয় সে তো সম্পদের পাহাড় নয়- শুধুই ভালবাসা। আর মানুষের সেই ভালবাসার সবটাই একদিন মানুষের জন্যই খরচ হয়ে যাবে। আর যা কিছু সম্পদের সঞ্চয় তা’ও ভালবাসার প্রতীক হয়েই মানুষের মধ্যে টিকে থাকবে। মানুষের হৃদয়ে যে ভালবাসা তা বহমান নদীর মতই - কখনো এই কূল ভাঙ্গবে তো অন্য কূল গড়বে। মানবিকতা হবে এই নদীর অব্যাহত ধারা। আমি চিরকাল সেই ধারাতেই প্রবাহিত হতে চাই।  

*

*

সাত সকালে খুন!

অরূপ সুপ্রতীক ঘোষ

 

এর আগে কতবার দু'হাতের প্রবল চাপ দিয়ে চেষ্টা করেছে প্রকাশ। পারেনি। বারবার ফেল করেছে। আজই সফল হল। তার এই প্রয়াসের শব্দটা বেশ জোরে হলেও এবারও হয়ত পারেনি বলেই মনে হয়েছিল প্রকাশের। আসলে সে কাজে বসলেই বেশী বিরক্ত করে এই জাতশত্রু। তাই সব রকম অস্ত্র শস্ত্র গুছিয়েই বসেছিল। কিছুক্ষণ বেশ নিরোপদ্রবেই কাজ করছিল সে। সকালের দিকেই বেশী ভাল কাজ হয় বলে প্রকাশ বেশীর ভাগ কাজ ভোরের দিকেই সেরে ফেলে যাতে সারাদিন বাড়ির, অফিসের, বান্ধব সমাজের কাজে লাগতে পারে।


আজ ভোর রাতেই উঠতে হয়েছিল। সাড়ে তিনটেয় উঠে সহধর্মিনীকে ডেকে তুলে দিল। NRS Medical College এ পরীক্ষা নিতে এসেছিলেন। আজ আবার ফিরে গেলেন বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে তাঁর কর্মস্থলে। উনি চা বানিয়ে দিন শুরু করে দিলেন। ভোরের দার্জিলিং চায়ের সুগন্ধ কি সুন্দর তা প্রকাশ একটু বেশীই জানে। ভালবাসে খুব, তাই আর কি। এ'হেন সুন্দর মুহূর্তেও জ্বালিয়ে চলেছে এই জাতশত্রু। বেশ কয়েকবার রাগের পাড়া চড়ে যাচ্ছিল প্রকাশের। সকাল সকাল বিরক্তি বা রাগ কোনটারই অধীন হতে চাইনি বলে সংযতই ছিল সে তবে কপালের ভাঁজটা তার রাত ভোরের চায়ের সঙ্গে একাত্ম হতে দিচ্ছিলনা। যাই হোক উপেক্ষার ক্রুর হাসি দিয়ে নিজেকে সংযত রাখল সে। গোছানো ব্যাগট্যাগগুলো কাল রাতেই তার পুত্র গাড়িতে তুলে দিয়েছিল। ছ'টা পাঁচের রাঁচী শতাব্দী এক্সপ্রেস ধরাতে হাওড়া ষ্টেশনে যেতে হয় প্রতি সোমবার। এ’ সপ্তাহে বুধ হল। ওই পরীক্ষা নিতে আসার জন্য। তৈরী হয়ে নিচে গ্যারাজে গাড়ী বের করতে এসে প্রকাশ দেখে শত্রু সেখানেও হাজির। গাড়ীতে বসেই টের পেল, সে ধারে কাছে এসে বেশ শ্লেষাত্মক স্বরেই তার পরীক্ষা নিয়ে চলেছে। রাগাশ্রয়ী বিরক্তি সংযত করে মনস্থির করে ফেলল প্রকাশ। “আজ তোর একদিন কি আমার একদিন”। কয়েকবার প্রবল বেগে মারবার চেষ্টা করে আশাহত প্রকাশ টের পেল রাগের পাড়া চড়ছে। সহধর্মিনী তখনও নীচে নামেননি। এই অপেক্ষায় সে বেশ অভ্যস্ত। নীচে নেমেই উনি কি বলতে বলতে গাড়ীতে উঠবেন তাও জানে প্রকাশ। "কোথায় তুমি? চল চল, আজও পাঁচটা দশ হয়ে গেল, সাড়ে তিনিটেয় উঠেও ... উফ... ইমার্জেন্সীটা জ্বালিয়ে তাড়াতাড়ি চালাও...”। আজও ব্যাতিক্রম হলনা।


বাড়ি ফিরে আরেক কাপ চা নিয়ে কাজে বসেছে প্রকাশ। আজ বেশী বাড়াবাড়ি করছে। কিছুতেই কাজ করতে দিচ্ছেনা। নামি দামী অস্ত্রশস্ত্রগুলোতে এত ভেজাল! সে ভাবছে আর মনস্থির করছে। আজ একটা খুন হবে তার হাতেই। বেশ নিজেকে গুছিয়ে বুঝিয়ে একদম চ্যাম্পিয়ন শ্যুটারের মত লক্ষ্যে গদগদ প্রকাশ নিশ্বাসটা চেপে মনঃসংযোগ করেই। ব্যাস। দিল চালিয়ে। পেরেছে? পারেনি? দ্বিধায় শঙ্কায় না কি আনন্দেই নিজের হাত দুটো মেলে ধরল। বিস্ফারিত চোখে দেখে, ডান হাতের অঙ্গুরিয় আর কণিষ্ঠার ফাঁকে রক্ত, গড়িয়ে তালুর দিকে নিচে নামছে। কতজনের রক্ত এখন তার হাতে? কে জানে, আর সেই সঙ্গে বীরের মত দেখতে থাকে রক্তপায়ী শত্রুর শব। এই রক্তে কি কি রোগ বা কতটা Estrogen আছে – অনুপম রায় জানতে পারে কিন্তু প্রকাশ কেন এ’সব ভাবছে! এই সাফল্যের কথা ভাবতে ভাবতে হাতটা ধুয়ে প্রকাশ আবার লিখতে বসল। সাত সকালে খুন।

*

*

প্রত্যাশা

জুয়েল রহমান

মাত্র চার বার রিং হতেই লতা ফোন ধরল। হ্যালো শব্দ শুনতেই রতনের পুরো শরীর যেন কুয়াশার মত বাষ্প হয়ে উঠল। মনে হচ্ছে তার চারপাশে কিছুই নাই, এক অপার্থিব পরিবেশে সে ভেসে বেড়াচ্ছে। গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছেনা, হাঁসফাঁশ করতে থাকে রতন। স্বাভাবিক হতে যেন কয়েক যুগ লেগে গেল। অবশেষে সে বলতে পারল, ‘তুমি এখনও জেগে আছ!’। লতার উত্তর, ‘তুমি তো বলে গেলা অনেক রাতে ফোন করবা’। আহ কি শান্তি, এই শান্তির নাম কি? মনে হয় যা পাওয়ার যোগ্য সে নয় তাই সে পেয়েছে। ঐ কণ্ঠে আছে বিশ্বাস, আশ্বাস হয়তো নির্ভরতাও। আর এই মুহূর্তটিকে আমার শুধু আমার করে নেয়ার বোধের অতীত এক তীব্র অনুভূতিতে রতনের সমগ্র সত্তা আচ্ছন্ন হয়ে আছে। কয়েকটি কথাই সে বলতে পারল, অথচ কতো কিছু বলবে বলে সে ভেবে রেখেছিল, কিছুই মনে পরলনা। রিসিভার কানে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। লতাকে বলল যে সে কিছুই বলতে পারছেনা, অতঃপর ফোন রেখে দিল। তীব্র এক ক্লান্তি গ্রাস করল তাকে, সেই ক্লান্তির মধ্যে নেই কোন ক্লেদাক্ত অনুভূতি বরং আছে স্নিগ্ধ জলে ডুবে যাওয়ার এক স্বর্গীয় অনুভূতি। রতন ধীরে ধীরে হলের বাগানে নেমে যায়। পুরানো কাস্তের মত ক্ষয়ে যাওয়া ক্রমান্বয়ে বিলীয়মান ঘোলাটে চাঁদ পশ্চিম আকাশে হেলে পরেছে। বাতাসে একটু হিমেল ভাব, বিশাল বাগানের এখানে ওখানে অন্ধকারের ছোপ, লাইটপোস্টের আলো সেগুলোকে দূর করতে পারেনি। সময়ের মহাসমুদ্রে তার এই অতি অতি ক্ষুদ্র আবর্তনের কোন মূল্যই নেই, কোন আন্দোলনও এখানে সৃষ্টি হবেনা। কিন্তু রতনের কাছে এই অনুভূতি প্রবাল ভাবে জান্তব।

(বাকীটুকু এখানে)

*

*

জলাশয় তত দূরে ...

বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়

দরজা খুলে একপাশে সরে দাঁড়ালো অতীন। ঠিক দরজার চৌকাঠ বরাবর ডান পা বাড়িয়ে বাঁ হাতটা দরজার পাল্লায় রেখে হাসি মুখেই অতীনের চোখে চোখ রাখল কথা। ভেতরে ঢুকবে কি ঢুকবে না –ভাবখানা এইরকমই মনে হলো অতীনের। জিজ্ঞেস করল, ‘ভয় পাচ্ছ? কোন ভয় নেই – আমি যা ছিলাম তাই-ই আছি।’ কথার দু’চোখে বিদ্যুৎ ঝলসালো। অধরে হাসিটা ধরে রেখেই বললো, ‘জানি, কথাটা তা নয় – আসলে এই দরজায় হাত রাখতেই মনে হল প্রতিটি জীবনের মতোই প্রতিটি দরজার গল্পও এক এক একরম। তাই না?’ ঠিক পাঁচ বছর পরে ওরা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একে অপরকে সকৌতুকে লক্ষ্য করছিল। বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি কথার চেহারার মধ্যে। সামান্য একটু মেদ বাড়লেও তাতে যে ব্যক্তিত্বের গভীরতাই বেড়েছে বলে মনে হল অতীনের। পাঁচটা বছর খুব কম নয় – বিশেষ করে জীবনের সুবর্ণ সময়ের প্রেক্ষিতে। কথাকে দেখে মনে হল না সে কলকাতা ছেড়ে দূরে গিয়ে ফের বিয়ে করেছে। যদিও শাঁখা – সিঁদুর থাকা না থাকায় আজকাল কেউ বিবাহিত কিনা তা নিশ্চিত করে না।

(বাকীটুকু এখানে)

ক্রস কানেকশান ও সম্পৃক্তি!

অরূপ সুপ্রতীক ঘোষ

আজ ৯ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৮।
সকাল থেকে মনটা ঠিক খারাপ কিনা তাও বুঝতে পারছেনা সে। ষাটেও সুবুদ্ধি সেনশর্মার শরীর ও মন এমনিতে ভালই থাকে। মনে, মননে ও শরীরে ভরপুর যুবক। “আমি তো খারাপ থাকিনা” এই উত্তরই পেয়ে থাকে কেউ জানতে চাইলে কিম্বা নিজের সন্দেহ হলে এটাই তার সংক্ষিপ্ত ও তাতক্ষণিক উত্তর। একটা অচেনা নাম্বার থেকে সকাল আটটা নাগাদ ফোনটা এল। তারপর থেকে থেকেই মন বার বার চলে যাচ্ছে তার, ১৯৯২ এর ডিসেম্বরের এক সন্ধ্যায়। কলকাতার পিজি হাস্পাতালের ম্যাকেঞ্জী ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন বাল্যবন্ধু দেবলের বাবা। ডক্টর সুনীল ব্যানার্জী। খুব সম্ভবত ১৫ কি ১৬ ডিসেম্বর হবে। সারাদেশ ফুঁসছে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরে। পক্ষে কমই। বিপক্ষেই বেশী সরগরম মানুষ। ও’পারে চট্টগ্রামে চট্টেশ্বরী জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই নিয়েও তর্ক বিবাদ আলোচনা পথে ঘাটে খবরের কাগজে, সর্বত্র। দেবলের বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এক অদ্ভুত কারণে। আজ পঁয়ত্রিশ দিন হল উনি খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। প্রায় চল্লিশ বছর দক্ষিণ কলকাতায় ডাকসাইটে ডাক্তার হিসেবে প্রাকটিস করেছেন। এই ম্যাকেঞ্জী ওয়ার্ডেই জুনিয়ার ডাক্তার হিসেবে কাজ করেছেন পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি সময়। ইষ্টবেঙ্গল ক্লাবের আজীবন সভ্য। যৌবনে খেলতেন ক্রিকেট আর নেশা বরাবরই ক্লাব ও ক্লাবের ফুটবল। একটা খেলাও বাদ যেতনা। এই মেশোমশাইএর দৌলতে সুবুদ্ধির অনেক খেলা দেখা মাঠে গিয়ে। একমাসের ওপর কাছাকাছি উনি খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন আর ওজন কমছে, কমেই চলেছে। এখন কথাও বন্ধ। কেমন ফাঁকা একটা দৃষ্টি দিয়ে চারদিক দেখেন কিন্তু কিছু বলেননা। দেবলের ট্যুরের চাকরী। মাসিমা দু’বেলা হাসপাতালে আসতে পারেননা। তাঁরও বয়স হয়েছে। সুবুদ্ধি ওনাদের আরেক ছেলে হিসেবেই বড় হয়েছে। সন্ধ্যাবেলা অফিস থেকে বেরিয়ে সুবুদ্ধি চলে আসে হাসপাতালে। যতক্ষণ সম্ভব ওখানেই থাকে। কি জানি কখন কি দরকার হয়। ডাক্তাররা হাল ছেড়ে দিয়েছেন। বিরাশী কিলো ওজনের মানুষটা এখন প্রায় বিছানায় লেগে আছেন। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে সুবুদ্ধি ভাবল আজ রাতটা কাটবে কিনা সন্দেহ। ডাক্তারও তাই বললেন। নাড়ীর গতি এত ক্ষীণ যে খুঁজে পাওয়াই মুস্কিল।

(বাকীটুকু এখানে)

*

*

একি খেলা আপন সনে

কঙ্কাবতী রাজকন্যা

আমার মা ছিলেন অপরূপা সুন্দরী। তার কাঁচা হলুদ মাখা গায়ের রঙ, বাঁশির মত টিকালো নাক, বড় বড় কালো ভ্রমরের মতন চোখ আর এক মাথা কুঁচকুঁচে কালো কোকড়া চুলের অমন অপরূপা সুন্দরী কোনো রমণী আমি আমার জীবনে আর কোনোদিন কোথাও কাউকেই দেখিনি। তবে কথায় আছে না 'অতি বড় সুন্দরী না পায় বর, অতি বড় ঘরনী না পায় ঘর', আমার মায়ের ক্ষেত্রে কথাটা একটু ভিন্নভাবে খেটেছিলো। অতিরিক্ত সৌন্দর্য্যের কারণে বেশ তাড়াতাড়িই বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো তার। তাও যে সে বিয়ে নয়, বেশ ভালো ঘরে বরেই বিয়েটা হয়েছিল। আমার দাদু সে আমলের বেশ বনেদী বংশের নামজাদা মানুষই ছিলেন। অর্থ, সম্পদ, ধনে মানে প্রতিপত্তিশালী এ বাড়িতে এমন একটি অতি রূপবতী বউ যেন সেই বাড়ির শান শওকত চাকচিক্য শতগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। শোনা যায় আমার দাদীও ছিলেন নাকি ডাকের সুন্দরী। ঘটকদের ঘটকালীর তালিকা খাতায় আমার দাদীর নাম ছিল এক নাম্বারে। আমার দাদুর বাবা অর্থাৎ আমার দাদীর শ্বশুরমশাই কনে দেখার দিনে তার গলায় পরানো চিকন সোনার হার নাকি দেখতেই পাননি তার সোনার বরণ গাত্রবর্ণের কারণে। তবে আমার দাদুর পাশে দাদী যেমন বেমানান ছিলেন, আমার বাবার পাশে মা ছিলেন ঠিক তেমনি বেমানান।

(বাকীটুকু এখানে)

*

*

প্রবন্ধ

যাদের রক্তে মুক্ত এ দেশ

*

আর্কাইভ